ফিফা বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মাঠে তখন প্রবীণ বনাম নবীনের এক মহাকাব্যিক লড়াই। একদিকে সর্বকালের অন্যতম সেরা লিওনেল মেসি, আর অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বের বর্তমান সেনসেশন ল্যামিন ইয়ামাল। তবে মাঠের লড়াইয়ে যা ঘটলো, তাকে এককথায় বলা যায় নতুন যুগের তীব্র গতির কাছে পুরোনো রাজত্বের একচ্ছত্র নতিস্বীকার। তরুণ তুর্কি ইয়ামালের জাদুকরী পারফরম্যান্সের সামনে মাঠেই যেন পুরোপুরি অসহায় আত্মসমর্পণ করলেন ফুটবল ঈশ্বর লিওনেল মেসি।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই স্প্যানিশ তরুণ ল্যামিন ইয়ামাল ছিলেন এককথায় অপ্রতিরোধ্য। ডান পাশ দিয়ে তার অতিমানবীয় গতি, ক্ষিপ্রগতির ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাসিংয়ের সামনে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ বারবার খেই হারিয়ে ফেলে। মাত্র ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের পায়ের জাদু গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের সম্মোহিত করে রেখেছিল। ল্যামিন ইয়ামাল এক একটি আক্রমণ যেন প্রতিপক্ষের ডিফেন্সকে ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছিল।
অন্যদিকে, লিওনেল মেসির জন্য রাতটি ছিল একেবারেই ভুলে যাওয়ার মতো। ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে এসে মেসিকে আজ তার চিরচেনা রূপে পাওয়া যায়নি। ইয়ামালের দলের হাই-প্রেসিং ফুটবল ও তরুণদের ক্ষিপ্র গতির কাছে মেসিকে বড্ড ক্লান্ত ও অসহায় দেখাচ্ছিল। ইয়ামাল যা করেছে, তা মেসিকে তার নিজের তরুণ বয়সের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল। তবে আজ মেসিকে বড্ড একা এবং অসহায় লেগেছে।
মেসি কয়েকবার বল পেয়ে আক্রমণ শানানোর চেষ্টা করলেও ইয়ামালের সতীর্থদের কড়া ট্যাকল ও মার্কিংয়ের কারণে বারবার বল হারাচ্ছিলেন। তরুণদের এই আগ্রাসী ও গতিশীল ফুটবলের সামনে কার্যত কোনো প্রতিরোধই গড়ে তুলতে পারেনি মেসির দল।
খেলা শেষে ল্যামিন ইয়ামাল ছুটে গেলেন মেসির কাছে। তাদের আলিঙ্গনের দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। এক সময়ের সেই বিখ্যাত গোসলের ছবি (যেখানে শিশু ইয়ামালকে কোলে নিয়েছিলেন মেসি) আজ মাঠের বাস্তবতায় নতুন রূপ পেল। তবে মাঠের খেলায় কোনো আবেগ ছিল না; সেখানে ছিল শুধু এক প্রজন্মের বিদায় আর অন্য প্রজন্মের রাজকীয় আগমন বার্তা।
