ঢাকা | লোড হচ্ছে...
ADVERTISEMENT হেডার মেইন বিজ্ঞাপন

কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: যেখানে ঘুষই ‘মৌলিক অধিকার’! (পর্ব-১)

  • Md. Iqbal Hossen
    Md. Iqbal Hossen
    Staff Correspondent | আপলোড সময়: 29 জুলাই 2026 02:54 অপরাহ্ন
কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: যেখানে ঘুষই ‘মৌলিক অধিকার’! (পর্ব-১)

কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস: যেখানে ঘুষই ‘মৌলিক অধিকার’! (পর্ব-১)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে এসে চরম ভোগান্তি ও নিয়মতান্ত্রিক দুর্নীতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ঘুষ ছাড়া এখানে কোনো ফাইলের নড়চড় হয় না বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। ভুক্তভোগীদের দাবি, এই অফিসে ঘুষের টাকা দেওয়া যেনো কোনো অপরাধ নয়, বরং তা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘মৌলিক অধিকারে’ পরিণত হয়েছে।

 

টাকা ছাড়া ঘোরে না চাকা
সরেজমিনে এবং ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জমি কেনাবেচা বা হস্তান্তরের পর দলিল রেজিস্ট্রি করতে এসে সরকার নির্ধারিত ফির বাইরে গুনতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের অতিরিক্ত টাকা। হেবা দলিল, সাব-কবলা কিংবা বণ্টননামাসব ধরণের দলিলেই নির্দিষ্ট হারে ‘স্পিড মানি’ বা ঘুষের টাকা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। এই নির্ধারিত টাকা না দিলে নানা অজুহাতে দলিল আটকে রাখা হয় অথবা দিনের পর দিন ঘুরানো হয়।

 

দলিল লেখকদের সিন্ডিকেট
অভিযোগ রয়েছে, অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দলিল লেখকদের (মোহরার) একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করছে। সাধারণ মানুষ সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রারের মুখোমুখি হতে পারেন না। মাঝখানে দালাল বা নির্দিষ্ট দলিল লেখকদের মাধ্যমে আগে থেকেই ঘুষের টাকা চুক্তি করতে হয়। সরকারি নিয়ম মেনে ব্যাংকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে ফি জমা দিলেও, অফিসের ভেতরের ‘টেবিল ফি’ বা বকশিশের নামে অতিরিক্ত টাকা না দিলে মূল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় না।

 

ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালিপুর অফিসে আসা এক সেবাগ্রহীতা বলেন, ‘জমির সব কাগজপত্র ঠিক থাকার পরও শুধু অতিরিক্ত টাকা না দেওয়ায় আমার ফাইল তিনদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে বাধ্য হয়ে ধার করে টাকা এনে দিতে হয়েছে। এখানে সরকারি নিয়ম বলতে কিছু নেই, ঘুষের টাকাই এখানে প্রধান নিয়ম। মনে হয় ঘুষ নেওয়াটা উনাদের মৌলিক অধিকার!’

 

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
এই সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়ে কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি ও প্রকাশ্য ক্ষোভের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা বলছে।

 

উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নীরবতায় এই সিন্ডিকেট দিন দিন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বাঁশখালীর সাধারণ জনগণের দাবি, কালিপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের এই প্রকাশ্য দুর্নীতি বন্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা নিবন্ধন কার্যালয় যেন দ্রুত কার্যকর ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

আসছে দ্বিতীয় পর্ব..........


আপনার মতামত লিখুন

Md. Iqbal Hossen

Staff Correspondent

প্রতিবেদকের সব খবর
সর্বশেষ সংবাদ
Mollah Liakat Hossain | CEO
Helpline Number: +8801974-973418
LIVE TV