সূর্যের আলো মূলত সাতটি রঙের (বেগুনী, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল) মিশ্রণ, যা একসাথে সাদা দেখায়। কিন্তু যখন এই আলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন বায়ুমণ্ডলের গ্যাস ও ধূলিকণার কারণে আলোর বিক্ষাপণ ঘটে।
সূর্যের আলো আমাদের চোখে লাল দেখার পেছনে মূল কারণ হলো এই আলোর বিক্ষাপণ এবং রেলেই বিক্ষাপণ নীতি।
যে কারণে সূর্য লাল দেখায়
আলোর বিক্ষাপণের নিয়ম অনুযায়ী, যে রঙের আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত ছোট, সেই আলো তত বেশি ছড়িয়ে পড়ে। আর যার তরঙ্গদৈর্ঘ্য যত বড়, তা সোজা চলে আসতে পারে।
নীল ও বেগুনী আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য খুব ছোট, তাই এরা বায়ুমণ্ডলে খুব সহজে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে (এজন্যই দিনের বেলা আকাশ নীল দেখায়)। অন্যদিকে, লাল ও কমলা আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্য সবচেয়ে বেশি, যার কারণে এরা সহজে চারদিকে ছড়ায় না।
দুপুরে সূর্য আমাদের মাথার ওপরে থাকে, তাই আলোকে বায়ুমণ্ডলের খুব পাতলা স্তর পার হতে হয়। তখন খুব বেশি আলো ছড়াতে পারে না, ফলে সূর্যকে আমরা তার স্বাভাবিক উজ্জ্বল হালকা হলুদ বা সাদাটে রঙে দেখি।
সকাল এবং সন্ধ্যার সময় সূর্য দিগন্তের কাছাকাছি থাকে। এই সময়ে সূর্যের আলোকে আমাদের চোখে পৌঁছানোর জন্য দুপুরের তুলনায় অনেক বেশি পথ এবং বায়ুমণ্ডলের অনেক ঘন স্তর পার হতে হয়।
এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যের নীল, বেগুনী বা সবুজ আলোগুলো বায়ুমণ্ডলে চারদিকে পুরোপুরি ছড়িয়ে গিয়ে আমাদের দৃষ্টিসীমা থেকে হারিয়ে যায়। কিন্তু দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের লাল এবং কমলা আলো বায়ুমণ্ডল ভেদ করে সরাসরি আমাদের চোখে এসে পৌঁছায়।
যেহেতু কেবল লাল এবং কমলা রঙের আলোই সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আমাদের পর্যন্ত আসতে পারে, তাই সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সূর্য এবং তার চারপাশের আকাশকে আমরা লাল বা লালচে-কমলা রঙের দেখি।
