জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার হত্যা ও তারেক চৌকিদারকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে ফের গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হকের আদালত তদন্ত কর্মকর্তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। এ সময় কারাগার থেকে আ স ম ফিরোজকে আদালতে হাজির করা হয়।
‘এক মামলায় জামিন হলে আরেক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়’
আদালতে নেওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আ স ম ফিরোজ। তিনি অভিযোগ করেন, এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এক মামলায় দুই বছরের সাজা খাটলাম। জামিন হয়েছে। আবার অ্যারেস্ট দেখাল। একটা মামলায় জামিন পেলে আরেকটা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট। এটা কি আইন।’
আওয়ামী লীগ ক্ষমা চাইবে কি না
আওয়ামী লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাইলে তো হবে না। যে ক্ষমা চাওয়ার যোগ্য, তাকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন না।
নিজেকে নির্দোষ দাবি
এজলাসে আদালতের অনুমতি নিয়ে আ স ম ফিরোজ নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা ও রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তার বয়স ৭৮ বছর এবং দুই বছরের বেশি সময় ধরে তিনি কারাগারে রয়েছেন। নিজেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আটবারের সংসদ সদস্য উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো অন্যায় বা অপরাধ করেননি।
অসুস্থতার কথা জানিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও আদালতকে জানান তিনি। একই সঙ্গে এক মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ করেন।
দুই পক্ষের আইনজীবীদের শুনানি
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ আ স ম ফিরোজকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
অন্যদিকে তার পক্ষে আইনজীবী কামাল হোসেন বিশ্বাস ও শফিকুল ইসলাম স্বপন গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
শুনানি শেষে আদালত আ স ম ফিরোজকে দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করা হলে আদালত কারাবিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
তার আরেক আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন দাবি করেন, চার মামলায় উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলে নতুন দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
যাত্রাবাড়ীতে নাইম হত্যা মামলা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই দুপুরে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ী থানার উত্তর কুতুবখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান করছিলেন শিক্ষার্থী নাইম হাওলাদার।
এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরে মামলা করা হয়।
তারেককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ
অন্য মামলার বিবরণে বলা হয়, একই দিন যাত্রাবাড়ী থানাধীন এলাকায় তারেক তৌকিদারের রুমমেট শিহাব ছাদে গুলিবিদ্ধ হন। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে তারেকও গুলিবিদ্ধ হন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৬ মার্চ তারেক বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।
২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে
২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে মামলার তথ্য থেকে জানা গেছে।
তবে এসব মামলায় আ স ম ফিরোজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে বিচারাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা এখনো বিচারিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি।
সামালা টিভি | আইন ও রাজনীতি ডেস্ক
