দেশের বাজারের ৩৪টি টুথপেস্টের নমুনা পরীক্ষা করে ২৬টিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার দাবি করেছে এক পরিবেশ ও উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা। পরীক্ষায় প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এই পরীক্ষার অন্তর্ভুক্ত বাকি ৮টি টুথপেস্টে কোনো মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা খুঁজে পাওয়া যায়নি। রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
সংস্থাটি জানায়, দেশের বিভিন্ন বাজার থেকে সংগৃহীত স্থানীয় ও আমদানি করা ১৯টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষায়িত গবেষণাগারে বিশ্লেষণ করা হয়। বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তৈরি বিভিন্ন নমুনার মধ্যে চার দেশের দেশীয় ও আমদানিকৃত ব্র্যান্ডের পণ্যেই এসব প্লাস্টিক কণা শনাক্ত হয়।
তবে স্থানীয় তিনটি ব্র্যান্ডের সুনির্দিষ্ট কিছু ধরণ এবং আমদানিকৃত পাঁচটি টুথপেস্টে কোনো প্লাস্টিক উপাদান মেলেনি। গবেষকদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করার উদ্দেশ্যে এই গবেষণা চালানো হয়নি। দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সর্বোচ্চ সহনশীল মাত্রা বা লেবেলে সঠিক তথ্য প্রকাশের আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।
জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অবিলম্বে এই উপাদানগুলোর জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ ও বাজার তদারকির তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সহনশীল সীমা নির্ধারণ ও পণ্যের গায়ে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলে জানানো হয়।
