বিভিন্ন দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত
সামালা টিভি | দুর্নীতি ও অনুসন্ধান ডেস্ক
সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন—দুদক। একই সঙ্গে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখা এবং বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি।
রোববার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ।
নিয়োগ, বদলি ও টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ
দুদক কর্মকর্তা তানজির আহমেদ বলেন, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থপাচারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে নিয়োগ, জেলা প্রশাসক—ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।
উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
এ ছাড়া গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক।
অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে—বিদেশে বিপুল অর্থপাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ে তোলা।
বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও অভিযোগ
দুদকের বক্তব্য অনুযায়ী, আসিফ মাহমুদের বাবা, ব্যক্তিগত সহকারী—এপিএস এবং প্রটোকল অফিসার—পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
তানজির আহমেদ বলেন, অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। অনুসন্ধান শেষে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সামালা টিভি | দুর্নীতি ও অনুসন্ধান ডেস্ক
