উপশিরোনাম: মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছিল বিকেল ৪টায়, বান্ধবীর নাম ও ঠিকানা জানতে চেয়েছিলেন তিনি; হত্যার কারণ অনুসন্ধান করছে পুলিশ
সামালা টিভি | অপরাধ সংবাদ
কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানক্ষেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কসংলগ্ন জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় তাজমিনের মায়ের বক্তব্য সামনে এসেছে। মেয়ের এক বান্ধবীকে ভালো মনে না হওয়ায় প্রায় ছয় মাস তাকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি। মেয়ের চলাফেরা ও বন্ধুত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখার চেষ্টা করতেন।
কিন্তু মায়ের সেই উদ্বেগের মধ্যেই ঘটে গেল মর্মান্তিক ঘটনা। কীভাবে তাজমিনের মৃত্যু হলো, কী কারণে সে বাড়ি থেকে ওই এলাকায় গেল এবং মৃত্যুর আগে তার সঙ্গে কারা ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
মৃত্যুর আগে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন বিকেল ৪টার দিকে তাজমিনের সঙ্গে মায়ের সর্বশেষ কথা হয়। কথোপকথনের একপর্যায়ে মা মেয়ের বান্ধবীর নাম ও বাসার ঠিকানা জানতে চান।
মা তাকে বলেছিলেন, “তোর বান্ধবীর নাম বল, বাসার ঠিকানা বল, বাসায় গিয়ে নিয়ে আসব।”
মেয়ের ওই বান্ধবীকে নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল মায়ের। তার ধারণা ছিল, বান্ধবীটি মেয়ের জন্য ভালো নয়। এ কারণে প্রায় ছয় মাস তাজমিনকে স্কুলে যেতে দেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
মেয়েকে চোখে চোখে রাখা এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করতেন বলেও জানান তাজমিনের মা।
ধানক্ষেতে কীভাবে পৌঁছাল তাজমিন?
বিকেল ৪টায় মায়ের সঙ্গে কথা হওয়ার পর তাজমিনের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তা এখনো পরিষ্কার নয়। কীভাবে সে লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় পৌঁছাল, কারও সঙ্গে সেখানে গিয়েছিল কি না, কিংবা তার মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।
ধানক্ষেত থেকে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা শোকাহত। তারা তাজমিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান।
বান্ধবীর সঙ্গে যোগসূত্র আছে কি?
তাজমিনের মায়ের বক্তব্যে বান্ধবীকে নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এলেও, ওই বান্ধবীর সঙ্গে তাজমিনের মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
শুধু মায়ের সন্দেহ বা বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করা যায় না। মৃত্যুর কারণ, ঘটনার আগে তাজমিনের চলাফেরা এবং সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত করছে। তদন্তের অগ্রগতি ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই মৃত্যুর বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সামালা টিভির পক্ষ থেকে জান্নাতুল তাজমিনের মৃত্যুর ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।
