ক্রীড়া প্রতিবেদক: স্কোরবোর্ডে ১৫৪ রান তুলতেই নেই ৯ উইকেট! পরাজয় যখন কেবল সময়ের ব্যাপার, ঠিক তখনই রূপকথার জন্ম দিলেন শাদাব খান। শেষ উইকেটে হারিস রউফকে সঙ্গে নিয়ে অবিশ্বাস্য এক লড়াই চালায় পাকিস্তান। দশম উইকেটে ৮৯ রানের অবিস্মরণীয় জুটি গড়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে দলকে নাটকীয় এক জয় উপহার দিয়েছেন শাদাব।
এই জয়ের ফলে ইংল্যান্ডকে ১ উইকেটে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক পাকিস্তান। টানা তিন জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে তারা, অন্যদিকে টানা তিন ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার মুখে ইংলিশরা।
১৫৪ রানে ৯ উইকেট পতনের পর রূপকথার প্রত্যাবর্তন
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ইংল্যান্ড ৪৬.৪ ওভারে ২৪১ রানে গুটিয়ে যায়। দলের হয়ে অধিনায়ক বেন ডাকেট ১১১ বলে ১০৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। এছাড়া স্যাম কারেন ৪২ ও গাস অ্যাটকিনসন ৩৬ রান করেন। পাকিস্তানের পক্ষে শাহিন শাহ আফ্রিদি একাই শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া রাজাউল্লাহ ও আরাফাত মিনহাস নেন ২টি করে উইকেট।
জবাবে ২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের মুখে চলে যায় দলটি।
শাদাবের ঐতিহাসিক সেঞ্চুরি ও নাটকের মুহূর্ত
দশম উইকেটে ক্রিজে এসে ম্যাচের পুরো চিত্র পাল্টে দেন শাদাব খান। ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে মাত্র ৯৬ বলে ১১৩ রানের অপরাজিত এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (সব ফরম্যাট মিলিয়ে) এটি তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি।
তবে এই জয়ের পথে ছিল চরম নাটকীয়তা:
-
রিভিউ বাঁচাল জীবন: জয় থেকে মাত্র ২১ রান দূরে থাকার সময় গাস অ্যাটকিনসনের বলে এলবিডব্লিউর শিকার হন শাদাব। আম্পায়ার আউট দিলেও প্যাভিলিয়নের দিকে হাঁটা শুরু করেছিলেন তিনি। ঠিক সে মুহূর্তে সঙ্গী ব্যাটার হারিস রউফ তাকে ডেকে রিভিউ নেওয়ার পরামর্শ দেন। টিভি রিভিউতে দেখা যায় বল প্যাডে লাগার আগে ব্যাটের কানায় লেগেছিল! জীবন পেয়েই ইতিহাস গড়েন শাদাব।
-
বিশ্বরেকর্ড জুটি: দশম উইকেটে শাদাব ও হারিস রউফ যোগ করেন অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে রানতাড়ায় এটি দশম উইকেটে সর্বকালের সর্বোচ্চ জুটির বিশ্বরেকর্ড। ১৯৭৫ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা ৬৪ রানের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন এই দুই ব্যাটার।
পাকিস্তানের পক্ষে শাদাবের বাইরে সাদ বেগ ৩২ ও সালমান আঘা ২৬ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান।
SAMALA TV-র ক্রীড়া বিশ্লেষণ
ক্রিকেটকে বলা হয় অনিশ্চয়তার খেলা—লাহোরের এই ম্যাচটি তার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দল শেষ উইকেটে কীভাবে ম্যাচ বের করে আনতে পারে, শাদাব ও রউফের এই জুটি তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় করে রাখবে। সামালা টিভির পক্ষ থেকে টাইগারদের পরবর্তী ফাইনাল ম্যাচের জন্য শুভকামনা।
SAMALA TV | দেশ ও মানুষের কথা বলে...
