লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেলামেশা এবং শেষ মুহূর্তে অন্য পাত্রী দেখে সটকে পড়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বগুড়ার সহকারী জজ ইউনুস আলীর বিরুদ্ধে। বিচারক প্রেমিকের এহেন প্রতারণার প্রতিবাদে এবং বিয়ের দাবিতে লালমনিরহাটে তাঁর নিজ বাড়িতে তিন দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন এক স্কুলশিক্ষিকা।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো লালমনিরহাট জেলাজুড়ে এবং বিচারক মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিচারকের বাড়িতে অনশনরত প্রেমিকাকে এক নজর দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন শত শত কৌতূহলী মানুষ।
১১ বছরের প্রেম ও বিয়ের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ
ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষিকার নাম আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের জাকির হোসেন লস্করের মেয়ে এবং বর্তমানে রংপুরের হারাগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত সহকারী জজ ইউনুস আলী একই এলাকার জয়নাল আবেদীনের চতুর্থ ছেলে।
শিক্ষিকা আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তির বিস্ফোরক অভিযোগ অনুযায়ী:
-
দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক: গত প্রায় ১১ বছর ধরে বিচারক ইউনুস আলীর সঙ্গে তাঁর গভীর প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে।
-
বিয়ে ও মেলামেশা: বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এই দীর্ঘ সময়ে ইউনুস তাঁর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক মেলামেশায় লিপ্ত হন।
-
গোপনে পাত্রী সন্ধান: সম্প্রতি প্রাপ্তি জানতে পারেন যে, দীর্ঘদিনের এই সম্পর্কের কথা সম্পূর্ণ গোপন রেখে ইউনুস ও তাঁর পরিবার অন্যত্র বিয়ের জন্য নতুন পাত্রী দেখছেন।
এই খবর পাওয়ার পর গত শুক্রবার দুপুরে কোনো উপায় না পেয়ে সোজা বিচারক ইউনুস আলীর বাড়িতে হাজির হন ওই শিক্ষিকা এবং ঘরে অবস্থান নেন। প্রেমিকা বাড়িতে এসে অনশনে বসেছেন খবর পেয়েই বিচারক ইউনুস আলী দ্রুত ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।
পরিবারের আশ্বাস ও প্রেমিকার অনড় অবস্থান
অনশনরত শিক্ষিকাকে শান্ত করতে বিচারকের বড় ভাই হযরত আলী গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা পরিবারগতভাবে অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। বিচারক ইউনুস দুই-একদিনের মধ্যে বাড়িতে ফিরলেই পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
তবে বিচারক পরিবার ও ভাইয়ের এই আশ্বাসে বিন্দুমাত্র ভরসা পাচ্ছেন না প্রেমিকা প্রাপ্তি। তাঁর দ্ব্যর্থহীন ঘোষণা—“দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের কথা বলে আমাকে নানাভাবে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। তাই ইউনুস নিজে এসে সামনাসামনি বিয়ে না করা পর্যন্ত আমি এই বাড়ি ছাড়ছি না।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের বক্তব্য
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় টংভাঙ্গা ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানান, পুরো এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে এর একটি সুরাহার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। তবে বিচারকের পরিবার জানিয়েছে যে তারা বিষয়টি আপস-মীমাংসার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত শিক্ষিকা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি; অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
SAMALA TV-র আইনি পর্যবেক্ষণ
যিনি নিজে বিচারালয়ের আসনে বসে মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেন, তাঁর নিজের জীবনেই যদি এমন প্রেমের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠে, তবে তা বিচার বিভাগের ভাবমূর্তির জন্যও এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। সামালা টিভি মনে করে—আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে কেবল পারিবারিক আপস নয়, বরং বিষয়টি খতিয়ে দেখে নৈতিক ও প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
