টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা’য় ছয় বছরের এক শিশু ছাত্রীকে চুমু দিয়ে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের পর ঘটনাটি এক নতুন মোড় নিয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁর গ্রেপ্তারের পর, এবার ওই শিশুর বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে জোর অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও ঘটনার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডের ক্বারীউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠায়।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর হোসেন জানান, ঘটনার দিনই অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তারপূর্বক আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে পরবর্তীতে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে দায়ের করা একটি মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি অভিযুক্ত হওয়ায় তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
‘মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম সন্তানের বিচার চাইতে, মব সৃষ্টি করতে নয়’: শিশুটির বাবা
মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধরের একাধিক অভিযোগ উঠলে শুক্রবার মধ্যরাতে নিজ অবস্থান পরিষ্কার করতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। সেখানে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ কড়াকড়িভাবে অস্বীকার করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবেগরুদ্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন:
-
সন্তানের নিরাপত্তার দাবি: “আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্যই আমার মেয়েকে সেই মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার ছোট সন্তানটিই নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন জঘন্য ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করতে পারি? আমি মাদ্রাসার বিরুদ্ধে নই, কোনো সাধারণ শিক্ষকের বিরুদ্ধেও নই।”
-
হামলার অভিযোগ অস্বীকার: “আমি কেবল আমার অবুঝ সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের সুষ্ঠু বিচার চাইতে মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম, কোনো ধরনের মব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়।”
-
আইনের প্রতি আস্থা: নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার বিষয়ে তিনি জানান, বিকেলে মামলার খবর পেয়েছেন। আইন যদি তাঁকে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে তবে আইনানুগ যেকোনো শাস্তি তিনি মেনে নেবেন; কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর নিষ্পাপ সন্তানের সঙ্গে হওয়া চরম অন্যায়েরও নিরপেক্ষ বিচার দাবি করেন তিনি।
SAMALA TV-র পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানী মতামত
যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষক গ্রেপ্তারের পর ঘটনাপ্রবাহে যেভাবে উভয় পক্ষ পাল্টাপাল্টি মামলায় জড়িয়ে পড়েছে, তাতে মূল অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া যেন কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাবে ব্যাহত না হয়। সামালা টিভি মনে করে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত কোনো পক্ষপাতের সুযোগ না রেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগী পরিবার যেন বিচারের পরিবর্তে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করা।
