আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিরিয়া ও ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের সীমান্ত পর্যন্ত গিয়েও কোনো হামলা না চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ফিরে এসেছে ইসরায়েলের কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও রিফুয়েলিং প্লেন। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সংঘটিত এই ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একাধিক সূত্রের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিয়োস’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে।
ইসরায়েলি পদক্ষেপ ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বঅবগতি
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ না করে সীমান্ত থেকেই নিজ ঘাঁটিতে ফিরে আসে। তবে এই সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে তেল আবিব আগেই ওয়াশিংটনকে অবহিত করেছিল।
-
ইসরায়েলের ব্যাখ্যা: ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইরান যেন নতুন করে কোনো হামলা চালাতে না পারে, তার প্রতিরোধমূলক প্রস্তুতি হিসেবেই এই মহড়া বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এটিকে তারা একটি নিয়মিত সামরিক প্রশিক্ষণ হিসেবেও অভিহিত করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সন্দেহ ও ইরানের সংযম
এদিকে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রশাসনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। তাঁদের মতে, এটি শুধুই কোনো মহড়া ছিল না, বরং এর পেছনে ছিল এক সুদূরপ্রসারী কৌশল।
-
ফাঁদ পাতার চেষ্টা: ইসরায়েলের পরিকল্পনা ছিল—যুদ্ধবিমানগুলো সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছানোর পর ইরানি বাহিনী প্ররোচিত হয়ে তাদের লক্ষ্য করে মিসাইল বা গুলি ছুড়বে। আর সেই হামলাকে অজুহাত বা ‘বসিলা’ বানিয়ে নতুন করে ইরানে সর্বাত্মক সামরিক আক্রমণ শুরু করবে ইসরায়েল।
-
ইরানের নীরবতা: তবে শেষ পর্যন্ত তেহরান এই ফাঁদে পা দেয়নি। ইরানি বাহিনী কোনো ধরনের গুলি বা মিসাইল নিক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকে, যার ফলে ইসরায়েলও আর বড় কোনো সংঘাতে জড়াতে সাহস পায়নি।
নেতানিয়াহুর হামলা অনুমতির আবেদন ও ট্রাম্পের না
এর আগে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, চলতি মাসের শুরুর দিকেই ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলার অনুমতি চেয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেই প্রস্তাবে সায় দেননি। কারণ তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্ররা নতুন করে কোনো বড় আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়াক—এমনটি তিনি চান না।
SAMALA TV-র ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি বজায় রাখতে এবং নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে ইসরায়েল যে একের পর এক উসকানিমূলক কৌশল এঁকে চলেছে, এই ঘটনা তারই পরিষ্কার প্রমাণ। তবে ইরানের সংযত ও কৌশলগত অবস্থান আপাতত বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে সাহায্য করেছে। সামালা টিভি মনে করে, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এ ধরনের যুদ্ধংদেহী মনোভাব ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করা বিশ্ব সম্প্রদায়ের এখনই নিশ্চিত করা উচিত।
SAMALA TV | দেশ ও মানুষের কথা বলে
