বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা, সরকারি কাজে বাধা ও নিরাপত্তাকর্মীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগে মামলা
সামালা টিভি | ঢাকা ডেস্ক
রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ—ডিবি। শুক্রবার, ২ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ডিএমপির ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন। পরে তাকে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
যে মামলায় গ্রেপ্তার
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা, নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম সজীব বাদী হয়ে শুক্রবার মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকায় পৌঁছানোর পর বিপুলসংখ্যক যাত্রীর চাপ তৈরি হয়। এ সময় ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট এবং লাগেজ পেতে বিলম্ব নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ সেখানে গেলে আখতারুজ্জামান তার দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান এবং হুমকি ও অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। মামলার এজাহারে তাকে নিরাপত্তা কর্মকর্তার সঙ্গে দুর্ব্যবহারেরও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকায় ভিডিও ধারণ করছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালাগাল ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন—এমন অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
তবে এগুলো মামলার এজাহারে থাকা অভিযোগ; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গ্রেপ্তারের আগে ভিডিও বার্তা
গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় আখতারুজ্জামান বলেন, ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে। তিনি জনগণ ও প্রবাসীদের স্বার্থে কাজ করার কথা বলেন এবং নিজের জন্য দোয়া করতে অনুরোধ করেন। পরে ডিবি জানায়, বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ওই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
জামায়াতের প্রতিক্রিয়া
আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের যাত্রী হয়রানি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং আখতারুজ্জামানের মুক্তি দাবি করেন।
জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিমানবন্দরের অনিয়ম বা যাত্রী হয়রানির বিষয় আড়াল করার উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়—এটি তাঁর রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্য।
আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম
আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলাটি তদন্ত করছেন বিমানবন্দর থানার এসআই মাজেদুল ইসলাম।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন বলে বাসস জানিয়েছে।
