সামালা টিভি | ঢাকা
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও ও যাত্রাবাড়ীর পর মগবাজার, বাবুবাজার, বঙ্গবাজার, সায়েন্সল্যাব, গুলিস্তান ও বিটিভি ভবনের আশপাশেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
একই সময়ে রাজধানীর কাফরুল, কলেজগেট ও চিটাগং হাইওয়ে রোডে তিনটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণে ইবাদুর রহমান নামে এক রিকশাচালক আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাবুবাজার ব্রিজের নিচে একটি মাজারের সামনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে রাত ৯টার দিকে মগবাজার চৌরাস্তা জামে মসজিদের পাশে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
রাত ১১টার দিকে বিটিভি ভবনের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশের সড়কেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তবে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের কোনো আলামত পাওয়ার কথা জানায়নি। ঘটনাটি ককটেল নাকি অন্য কোনো কিছুর কারণে হয়েছে, তা তখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এর আগে জুমার নামাজের পর মালিবাগ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্লাইওভার থেকে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়।
সন্ধ্যায় মহাখালীতে পরপর দুটি বিস্ফোরণ এবং আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ বেতার ভবনসংলগ্ন এলাকায় আরেকটি বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
পরে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে পরপর পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একজন রিকশাচালক আহত হন।
তিন বাসে অগ্নিসংযোগ
অন্যদিকে, শুক্রবার রাত ১০টা ১৪ মিনিটের দিকে রাজধানীর কাফরুল থানার সামনে ‘মিরপুর সুপার লিংক’ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
একই সময়ে কলেজগেট ও চিটাগংরোড হাইওয়েতেও দুটি বাসে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
মিরপুর বিভাগের সহকারী কমিশনার আবুল বাসার মোল্ল্যা জানান, বাসে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।
আতঙ্ক রাজধানীজুড়ে
একই দিনে রাজধানীর একাধিক এলাকায় ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত করছে। তবে এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং উদ্দেশ্য কী—তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সামালা টিভি—ঢাকাসহ রাজধানীর পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে।
