ঢাকা: রাজধানীর গুলশান-ভাটারা সংলগ্ন অভিজাত আবাসিক এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর অভিযানে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অভিযানে ওই ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হচ্ছে—যে আড়াইতলা ভবনটিতে এই অসামাজিক ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চলছিল, সেটির মালিক পুলিশ সদর দপ্তরে কর্মরত একজন অতিরিক্ত উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির উত্তরা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইলিয়াস কবীর। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিবি প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম।
এয়ারবিএনবির আড়ালে অসামাজিক কার্যকলাপ
ডিবি সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ভাটারা থানার পুলিশ হাউজিং-১ এলাকায় অবস্থিত এই আড়াইতলা বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমেয়াদি আবাসন ভাড়ার প্ল্যাটফর্ম ‘এয়ারবিএনবি’ (Airbnb)-র মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল।
-
অভিযোগের পটভূমি: আবাসিক এলাকায় এয়ারবিএনবির নামে ফ্ল্যাট ভাড়া দিয়ে মাদকসেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হচ্ছিল বলে স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অভিযোগ ছিল।
-
ডিবির ঝটিকা অভিযান: সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোররাতে ডিবির একাধিক টিম বাড়িটি কর্ডন করে অভিযান পরিচালনা করে।
-
আটক ও জব্দ: বাড়িটির বিভিন্ন ঘর থেকে ৮৪ জন নারী-পুরুষকে হাতেনাতে আটক করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি ও দেশি মদ।
কে এই অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির?
অভিযান চালানো বাড়িটির মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি বর্তমানে পুলিশ সদর দপ্তরের পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২ শাখায় অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে কর্মরত আছেন।
এক নজরে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল জহির:
ক্যাডার: ২৪তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তা।
বর্তমান পদায়ন: পুলিশ সদর দপ্তর, পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট-২।
পূর্ব অভিজ্ঞতা: সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমানের স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানতে ও প্রতিক্রিয়া নিতে অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহিরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে তাঁর মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সামালা টিভির বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তার নিজস্ব বাড়িতে এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও মদের আসর বসানোর ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। যখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর দেশের মানুষ নিরাপত্তার জন্য ভরসা করে, তখন এমন দায়িত্বশীল ব্যক্তির সম্পৃক্ততা আইন ও নীতি-নৈতিকতার জন্য চরম উদ্বেগজনক।
সামালা টিভি মনে করে, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। অপরাধী যে পদ বা মর্যাদারই হোক না কেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মূল অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনা প্রয়োজন, যাতে দেশের সাধারণ মানুষের ট্রাস্ট বা আস্থা ক্ষুণ্ন না হয়।
