সামালা টিভি ডেস্ক:
রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই সন্দেহভাজন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল দুই আসামির ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করে। এ সময় ডিবি পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের ল্যাবের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নমুনা পরীক্ষার পর সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
চারজনকে হত্যার অভিযোগ
গত ২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী বালা (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৫) এবং ছেলে আয়ুস চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই হত্যাকাণ্ডের কারণ ও এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে তদন্ত শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তার দুই যুবক
এ ঘটনায় পরদিন দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা হলেন মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস (১৯)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার দাবি করেছিল পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের শরীরে মাদকের কোনো প্রভাব বা অস্তিত্ব ছিল কি না, তা নিশ্চিত করতে ডোপ টেস্টের নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
তবে পরীক্ষায় মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তদন্তে কী বেরিয়ে আসে, সেদিকেই নজর
একই পরিবারের চার সদস্যের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। পাশাপাশি গ্রেপ্তার দুই যুবকের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তবে ডোপ টেস্টে মাদক না পাওয়ার বিষয়টি হত্যাকাণ্ডে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দেয় না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে—এসব তদন্তের মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে।
রংপুরের আলোচিত এই চার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কোন দিকে যাচ্ছে এবং গ্রেপ্তার দুই যুবকের বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায়—এখন সেদিকেই নজর রয়েছে।
সামালা টিভি | রংপুর
