বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের শরণখোলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। পরকীয়ায় জড়িয়ে বিয়ের প্রতারণা ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শান্তা আক্তার জুঁই (৩০) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র পলাতক আসামি মাসুদ খাঁনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬ (এসআরবি-৬)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে খুলনা মহানগরীর শিরোমণি বাজার এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৬-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল নিস্তার আহমেদ।
১৫ বছরের সংসার ও পরকীয়ার ফাঁদ
মামলার এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে শরণখোলা উপজেলার রতিয়া রাজাপুর গ্রামের কুয়েত প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে শান্তা আক্তার জুঁইয়ের বিয়ে হয়। তাঁদের দাম্পত্য জীবনে ১১ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। স্বামী বিদেশে থাকার সুযোগে একই এলাকার মৃত আবদুস ছাত্তার খাঁনের ছেলে মাসুদ খাঁনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন জুঁই।
-
বিয়ের প্রলোভন ও আত্মগোপন: গত ৫ অক্টোবর বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে জুঁইকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে আসেন মাসুদ।
-
ভাড়া বাসায় অবস্থান: এরপর শরণখোলা থানার কদমতলা গ্রামে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস শুরু করেন তাঁরা।
-
নির্যাতন ও অস্বীকার: কিছুদিন যাওয়ার পর জুঁই বিয়ের জন্য চাপ দিলে মাসুদ বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকার করেন এবং তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন।
মৃত্যুর পথ বেছে নেওয়া ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ
প্রতারণা ও নির্যাতনের অবর্ণনীয় যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে গত ১৭ অক্টোবর কদমতলার ওই ভাড়া বাসাতেই আত্মহত্যা করেন জুঁই। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত মাসুদ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান।
এই ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ দেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৬-এর অধিনায়ক জানান, গ্রেফতারকৃত আসামি মাসুদ খাঁনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য শরণখোলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
SAMALA TV-র বস্তুনিষ্ঠ পর্যবেক্ষণ
সামাজিক নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় এবং পরকীয়া সম্পর্কের পরিণতি যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই এক করুণ উদাহরণ। একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যেমন ঝরে গেল একটি প্রাণ, তেমনি নিঃস্ব ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল একটি ১১ বছরের নিষ্পাপ শিশু। সামালা টিভি মনে করে—প্রলোভন ও প্রতারণার মাধ্যমে কাউকে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়া এক জঘন্য অপরাধ। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত, যেন সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধ নির্মূল হয়।
SAMALA TV | দেশ ও মানুষের কথা বলে
