রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তরুণীটি জীবিত নাকি মৃত—এ নিয়ে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন।
তবে সেই রহস্যের অনেকটাই এখন পরিষ্কার হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে ওই তরুণী নিজেই একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন। তবে ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে তিনি আপাতত রাজি হননি।
মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তরুণীকে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য
ঘটনাটি ঘটে গত বুধবার, ২৬ আগস্ট রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে। আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে একটি মোটরসাইকেলে তিনজন আরোহীকে দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি।
ওমরাহ সফর শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলটির কিছুটা পথ অনুসরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের চালকের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে শক্ত করে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর দুই পা মোটরসাইকেলের পাশে অস্বাভাবিকভাবে ঝুলছিল।
দৃশ্যটি দেখে ওই ব্যক্তি ধারণা করেছিলেন, তরুণী হয়তো অচেতন অথবা তার কোনো গুরুতর সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
অনুসন্ধানে মিলেছে মোটরসাইকেল ও আরোহীদের তথ্য
ঘটনার পর তরুণী এবং মোটরসাইকেলে থাকা দুই যুবকের পরিচয় ও সর্বশেষ অবস্থা জানতে অনুসন্ধান শুরু হয়।
নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। অনুসন্ধানে দুটি মোবাইল নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।
এর মধ্যে একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একজন শোরুম মালিক বলে জানা গেলেও তিনি দাবি করেছেন, মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি। কীভাবে তার মোবাইল নম্বর ওই মোটরসাইকেলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
অন্য একটি মোবাইল নম্বর দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ পাওয়া যায়।
তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া যুবক
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুরে হলেও ঘটনার সময় বাইকটি চালাচ্ছিলেন রাজেন্দ্রপুরের এক যুবক। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’ বলে জানা গেছে।
ওই যুবক মোটরসাইকেলে থাকা তরুণীকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তবে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তরুণীর বড় বোনের স্বামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন ওই তরুণীর সঙ্গে ওই যুবকের ঝগড়া হয়েছিল। এরপর তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান।
অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কী হয়েছিল?
তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরে তিনি ওই যুবকের সঙ্গে বাইরে ছিলেন এবং একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তবে তিনি মদ্যপান করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো স্বাধীন তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অসুস্থ অবস্থায় তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন ওই যুবক ও তার এক বন্ধু। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা টঙ্গীর পরিবর্তে মিরপুরের দিকে ফিরে যান।
সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রাখা হয় এবং পরে তার পরিবারের একজনকে বিষয়টি জানানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণীকে নিয়ে নানা ধরনের দাবি ও গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তার পরিচয়, শারীরিক অবস্থা এবং ওই দুই যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে।
তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকেও তার আগের বৈবাহিক জীবন নিয়ে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
শেষ পর্যন্ত কী জানা গেল?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মোটরসাইকেলে থাকা তরুণী মারা যাননি। তিনি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন।
শুক্রবার তার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। পরে সরাসরি দেখা করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
অর্থাৎ, মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে দৃশ্য নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার পরবর্তী অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে—তরুণীটি জীবিত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন।
তবে সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তিনি কী কারণে ওই অবস্থায় ছিলেন এবং মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—এসব প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর পেতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রয়োজন।
সামালা টিভি — সত্য তথ্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদ।
