সামালা টিভি | নিজস্ব প্রতিবেদক
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে ‘তিনটি ফাঁদ’ হিসেবে উল্লেখ করে কঠোর সমালোচনা করেছেন আমজনতার দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ওই সময়ে অন্তত দুই লাখ কোটি টাকার সম্পদ লুটপাটের অভিযোগ তুলে এর পূর্ণাঙ্গ হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রতি রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে এসব অভিযোগ ও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে তার উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
৩৭ সোলার প্রকল্প বাতিল নিয়ে প্রশ্ন
বিদ্যুৎ খাতের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে ৩৭টি সোলার প্রকল্প বাতিল করা হয়েছে।
তার প্রশ্ন, এসব প্রকল্পে যদি অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ থেকেই থাকে, তাহলে সেগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা কাটছাঁটের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুযোগ ছিল কি না।
তারেক রহমানের দাবি, প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ত। তাই এগুলো বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে কী কারণ ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তৃতীয় গ্যাস টার্মিনাল বাতিল নিয়েও প্রশ্ন
গ্যাসের তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৩০ মার্চ সামিটকে বাংলাদেশে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার সেই উদ্যোগ বাতিল করে।
তারেক রহমানের প্রশ্ন, প্রকল্পটিতে দুর্নীতি বা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার পরিমাণ কত ছিল এবং প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে প্রকল্পটি চালু রাখা সম্ভব ছিল কি না।
তার দাবি, নতুন করে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিলে প্রায় দুই বছর সময় লাগতে পারে। ফলে আগের প্রকল্প বাতিলের কারণে দেশ সময় হারিয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা উচিত।
হামের প্রাদুর্ভাব নিয়েও অভিযোগ
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, সংক্রামক রোগে বিশেষ করে শিশুদের মৃত্যু জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো এবং এর পেছনে প্রশাসনিক বা নীতিগত কোনো ব্যর্থতা ছিল কি না, তা তদন্তের দাবি জানান তিনি।
‘দুই লাখ কোটি টাকার হিসাব দিতে হবে’
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অন্তত দুই লাখ কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান।
তিনি প্রশ্ন তোলেন—এই অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং কারা এর মাধ্যমে লাভবান হয়েছেন—এসব তথ্য জনগণের সামনে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে কোনো বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার আগে বন্দরের চার্জ কমানো হয়ে থাকলে, সেই সিদ্ধান্তের পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তাও তদন্তের দাবি জানান তিনি।
সামিট ও গ্যাস প্রকল্প নিয়ে আরও প্রশ্ন
সামিটের সঙ্গে সরকারের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারেক রহমান। তার বক্তব্য, সামিটের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বাংলাদেশে গ্যাস সরবরাহের বিদ্যমান লাইন বন্ধ করা হয়নি। তাহলে তৃতীয় টার্মিনালের প্রকল্পটি কেন বাতিল করা হলো—এ প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।
একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠানের আন্তর্জাতিক প্রভাব বা স্বার্থ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করার দাবি জানান তিনি।
গ্রামীণফোন, গ্রামীণ ব্যাংক ও এনজিও নিয়েও তদন্তের দাবি
ড. ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আমজনতার দলের এই নেতা।
গ্রামীণফোন, গ্রামীণ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট এনজিওগুলো কী ধরনের সুবিধা পেয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংককে কত বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কী প্রক্রিয়ায় এসব সুবিধা দেওয়া হয়েছে—তার পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশের দাবি জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ কেনার জন্যও রাষ্ট্রকে অর্থের সংকটে পড়তে হচ্ছে। এ অবস্থায় রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় কোনো অনিয়ম বা বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সবশেষে তারেক রহমান বলেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে কে কী সুবিধা পেয়েছে, কীভাবে পেয়েছে এবং রাষ্ট্রের কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত।
কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং রাষ্ট্রের পাওনা অর্থ উদ্ধার করারও দাবি জানান তিনি।
সামালা টিভি | জাতীয় ডেস্ক
