বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
বিনোদন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড়
ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় ছিল উপচে পড়া ভিড়। ঈদের ছুটিতে মানুষ আত্মীয়স্বজনের বাসায় যাওয়ার পাশাপাশি পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে বিনোদন কেন্দ্র ও পর্যটন স্পটগুলোতে। বসুন্ধরা সিটির টগি ফান ওয়ার্ল্ড, মিরপুর চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন, জিয়া উদ্যান, সংসদ ভবন এলাকা, পুরান ঢাকার লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, বুড়িগঙ্গার তীর, উত্তরার দিয়াবাড়ী, হাতির ঝিল, শিশুমেলা, সোনারগাঁয়ের বিনোদন কেন্দ্রগুলোয় নানান বয়সি মানুষের উৎসবমুখর উপস্থিতি দেখা গেছে। রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে বিরাজ করেছে উৎসবমুখর পরিবেশ। ঈদ পার হলেও আনন্দের রেশ এখনো কাটেনি। ঈদের ছুটিতে মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন লক্ষাধিক দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছে। চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখা যায়, সন্তানদের বাঘ, সিংহ, জেব্রা, জিরাফ, হরিণ, ময়ূর, বানর, সাপ, নানানরকম পাখি, জলহস্তীসহ বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন বাবা-মা। শিশুরা এসব পশুপাখি দেখে উচ্ছ্বসিত। রাজধানীর রমনা পার্ক এমনিতেই থাকে মানুষের পদচারণে মুখর। বিভিন্ন ছুটিতে তা বেড়ে যায় বহুগুণ। গতকাল রমনার লেকপারে দেখা যায় নৌকায় ওঠার দীর্ঘ লাইন। এখানে বেড়াতে আসা গার্মেন্ট কর্মী হায়দার আলী বলেন, ‘ঈদের ছুটি কাটাতে বাসার সবাইকে নিয়ে এসেছি। চারদিকে অনেক ভিড়। আমরা যারা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত শ্রেণির মানুষ, আমাদের বিনোদন মানেই রমনা পার্ক।’ এবার ঈদের ছুটিতে জমজমাট ছিল বসুন্ধরা সিটিতে অবস্থিত টগি ফান ওয়ার্ল্ড। এখানে বেড়াতে আসা ডা. সাবেকুন নাহার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘শিশু পার্ক বন্ধ আর বাচ্চাদের জন্য বিনোদন কেন্দ্র অপ্রতুল। তাই আমাদের আস্থার জায়গা টগি ফান ওয়ার্ল্ড। বাচ্চাদের নিয়ে ঈদের ছুটি কাটাতে এসেছি। এখানে বড়দের জন্যও নানান আয়োজন রয়েছে।’ এ ছাড়া রাজধানীর পাড়ামহল্লার ছোট ছোট বিনোদন পার্কেও নগরবাসী ভিড় জমিয়েছে।
লোকারণ্য কক্সবাজার : কক্সবাজার প্রতিনিধি জানান, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পা ফেলার জায়গা নেই। ঈদের টানা ছুটিতে পর্যটক-দর্শনার্থীতে লোকারণ্য হয়ে উঠেছে কক্সবাজার সৈকত। শনিবার (ঈদের দিন) রাতে পর্যটকের আগমন শুরু হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। পর্যটননগরে ৯ লাখের বেশি পর্যটক উপস্থিতির কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সৈকতের লাইফগার্ড, বিচ কর্মী ও ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, ঈদের দিন রাত থেকেই দলে দলে পর্যটক আসছেন কক্সবাজারে। পর্যটকবাহী ও সাধারণ পরিবহন, ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাইবাস সড়ক, কলাতলী ডলফিন মোড়, হোটেল-মোটেল জোন, লাবণী, সুগন্ধা পয়েন্ট সবখানেই ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে। বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সতর্ক অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছে ট্যুরিস্ট ও জেলা পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।
চট্টগ্রামে পর্যটন কেন্দ্রে উপচে পড়া ভিড় : শহরের বাসিন্দারা ঈদের আনন্দ বাড়িয়ে নিতে পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রে ভিড় করছে। পাশাপাশি অনেকে গ্রামের বাড়ি থেকে ঈদ উৎসব শেষে নগরে ফিরে সন্তানদের নিয়ে অবসর কাটাতে সমুদ্রসৈকত, চিড়িয়াখানা ও দর্শনীয় স্থানে বেড়াতে যাচ্ছে।
মহানগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ভিড় করছে। পাশের আনোয়ারা উপজেলার পারকি সৈকতেও স্থানীয় পর্যটক দলে দলে বেড়াতে যাচ্ছে। এ ছাড়া নগরের ফয়’স লেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে সেখানকার সি ওয়ার্ল্ড, নানান ধরনের রাইড, ওয়াটার পার্ক, বেসক্যাম্পে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক সময় কাটাতে যাচ্ছে।
এদিকে মহানগরের আউটার রিং রোড, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা, ডিসি পার্ক, বাটারফ্লাই পার্ক, নেভাল রোড, সিআরবিতেও শত শত বিনোদনপ্রিয় মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে। মহানগরের বাইরে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সৈকত, চন্দ্রনাথ পাহাড়, ইকো পার্ক, মিরসরাইয়ের নাপিত্যাছড়া ঝর্ণা, খৈয়াছড়া ঝর্ণায়ও দূরদূরান্তের পর্যটক ছুটে আসছে। এসব পর্যটন কেন্দ্রেও ঈদ ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেওয়া হয়।