সামালা টিভি আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের পর ইরান পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও হেলিকপ্টার বহর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন MQ-9 ড্রোন ভূপাতিত করার দাবিও করেছে তেহরান।
রোববার ইরানের লারাক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর সোমবার এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন হামলায় লারাক দ্বীপে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপরই ইরান আঞ্চলিক বিভিন্ন মার্কিন সামরিক অবস্থানকে লক্ষ্য করে প্রতিশোধমূলক অভিযানের ঘোষণা দেয়।
আল মিনহাদ ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। ঘাঁটিটি দুবাইয়ের দক্ষিণে অবস্থিত এবং বিদেশি বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও বিমান পরিবহন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইরানের দাবি, সেখানে থাকা মার্কিন হেলিকপ্টার ও সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে হামলায় কতজন হতাহত হয়েছেন বা মার্কিন সামরিক সরঞ্জামের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে—এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
মার্কিন MQ-9 ড্রোন ভূপাতিতের দাবি
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির আকাশসীমায় একটি মার্কিন MQ-9 রিপার ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে পাল্টা সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও মার্কিন পক্ষ থেকে এ দাবির বিস্তারিত নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।
সুপার ট্যাংকারে আগুন, সামনে নৌ-নিরাপত্তার নতুন শঙ্কা
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে আরেকটি ঘটনাও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের নৌ ইউনিটের দাবি, নৌমাইনের আঘাতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। জাহাজটি ইরানের নির্ধারিত নৌ-নিরাপত্তা নির্দেশনা অমান্য করে প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেছিল বলে তেহরানের দাবি।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ও তেল পরিবহন ইতোমধ্যেই ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্ববাজারেও প্রভাব
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং প্রণালিতে নৌমাইন নিয়ে আশঙ্কার মধ্যে তেলের দাম বেড়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে নৌমাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা এখনো বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
সংঘাত কি আরও ছড়িয়ে পড়বে?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। অন্যদিকে ইরান যেকোনো নতুন হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে।
এ অবস্থায় সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক তেল ও জ্বালানি পরিবহন কতটা নিরাপদ থাকবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম, নৌবাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সামালা টিভি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
