‘অন্যের ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যাবে না’
সামালা টিভি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইসরায়েলের বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডকে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের মতপার্থক্য দূরে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ইস্তাম্বুলের হালিচ কংগ্রেস সেন্টারে আয়োজিত পবিত্র সিরাতুন্নবী সপ্তাহের একটি অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার বক্তব্যের বিষয়টি প্রকাশিত হয়।
‘মুসলিমদের ঐক্যই শক্তি’
এরদোয়ান বলেন, মুসলিমরা যদি নিজেদের অধিকার, স্বার্থ এবং আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা করতে চায়, তাহলে তাদের অন্য কোনো শক্তির ওপর নির্ভর করে থাকা উচিত নয়।
তার ভাষায়, মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার বিভেদ দূরে রেখে একসঙ্গে কাজ করা প্রয়োজন। আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিজেদের উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠা করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে বিশেষভাবে উঠে আসে ফিলিস্তিন, গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা।
ইসরায়েলকে ঘিরে কঠোর সমালোচনা
এরদোয়ান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকারকে ‘যুদ্ধকামী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার অভিযোগ, ইসরায়েল বিভিন্ন উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “জায়নবাদ প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তির জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।” পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার চেষ্টা করা মানুষ ও গোষ্ঠীগুলোও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়াকে যথেষ্ট নয় বলে সমালোচনা করেন এরদোয়ান।
বিশেষ করে গাজা ও বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বিভিন্ন নিয়ম, নীতি ও সীমারেখা লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।
এরদোয়ান ইসরায়েলের নীতিকে ‘গণহত্যামূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কঠোর অবস্থানের আহ্বান জানান।
শুধু ফিলিস্তিন নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার প্রশ্ন
তুরস্কের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে ফিলিস্তিনের পাশাপাশি সিরিয়া, লেবানন ও ইরানের পরিস্থিতিও উঠে আসে। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশের সংঘাত ধীরে ধীরে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করতে পারে।
তিনি মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আরও বেশি সহযোগিতা, সংহতি এবং যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
এরদোয়ানের বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলিম দেশগুলোকে নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়াতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
এরদোয়ানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন ও ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতেও গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের খবর এসেছে।
এদিকে তুরস্ক নিজেও সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে সক্রিয় কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কও বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে তীব্রভাবে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কী বার্তা দিলেন এরদোয়ান?
বিশ্লেষণ করলে এরদোয়ানের বক্তব্যে তিনটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে আসে—
- মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক ঐক্য ও সহযোগিতা বাড়ানো
- ইসরায়েলের আঞ্চলিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথ অবস্থান নেওয়া
- মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য বাইরের শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানো
তবে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে নীতিগত পার্থক্য রয়েছে। ফলে এরদোয়ানের আহ্বান বাস্তবে কতটা সমন্বিত রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক পদক্ষেপে রূপ নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সামালা টিভি | আন্তর্জাতিক সংবাদ
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত, কূটনৈতিক তৎপরতা ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সঙ্গে থাকুন।
