যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কফিন প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে প্রদর্শন করেছে ইরান। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন। এই আয়োজনে এক কোটি ২০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের উপস্থিতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, খামেনির কফিনের ওপর ইরানের মাশহাদ শহরের ইমাম রেজা মাজারের প্রতীকী লাল পতাকা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে তার স্মরণে শোক ও বিদায় অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৯ জুলাই মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে দাফন করা হবে। শেষ বিদায় ও জানাজায় বিশ্বের প্রায় ১০০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিভিন্ন সরকারের বিশেষ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও ইসলামি রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাদের হাশেমি বলেন, খামেনির কফিনে মোড়ানো লাল পতাকাটি শিয়া ইসলামে গভীর প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। এটি মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) নাতি ইমাম হুসাইন ইবনে আলির আত্মত্যাগের প্রতীক, যিনি সপ্তম শতাব্দীতে কারবালার যুদ্ধে নিহত হন এবং শিয়া মুসলমানদের কাছে সর্বাধিক শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের একজন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হন। এর চার মাস পর হতে যাচ্ছে খামেনির জানাজা ও দাফন। প্রয়াত এ নেতার জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (ছয় দিনব্যাপী) রাষ্ট্রীয় জানাজার আয়োজন করেছে দেশটি।
