আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরুর তথ্য; সাবেক সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি
সামালা টিভি | বিশেষ প্রতিবেদন
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। বিশেষ করে সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর তথ্য প্রকাশের পর অন্য উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার দাবি জোরালো হয়েছে।
তবে উল্লেখিত অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই অভিযোগ বা লিখিত দাবির পর্যায়ে রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বা তদন্তের চূড়ান্ত ফল ছাড়া কোনো ব্যক্তিকে দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করাও সমীচীন নয়।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ
দুদকের সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতির অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার, নিয়োগ ও পদায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ছাড়, টেন্ডার নিষ্পত্তি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের পদায়নে অবৈধ অর্থ লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও প্রমাণের বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াসা ও সিটি করপোরেশন নিয়োগ নিয়েও অভিযোগ
ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ ঘিরেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রকল্প ও ইজারা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে।
ডিসি পদায়ন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে দায়িত্ব ছাড়ার আগ পর্যন্ত জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পদায়নে আসিফ মাহমুদের হস্তক্ষেপ ছিল এবং জেলা প্রশাসক নিয়োগে তাঁর দেওয়া একাধিক ডিও লেটারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধেও তদন্তের দাবি
প্রতিবেদনে শুধু আসিফ মাহমুদ নয়, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ফ্রান্সে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, যুক্তরাষ্ট্রে গ্রামীণ আমেরিকার কার্যক্রম এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গ্রামীণ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সরকারি অনুমোদন ও সুবিধা পাওয়ার বিষয়গুলো তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
তবে এসব অর্থ লেনদেন বা বিনিয়োগ অবৈধভাবে পাচার করা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট নথি, অনুমোদন ও আর্থিক লেনদেনের স্বাধীন তদন্ত প্রয়োজন।
আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও নানা অভিযোগ
সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধেও প্রতিবেদনে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি, বিচারক বদলি, জেলা প্রশাসক পদায়ন এবং রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দেওয়া নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বিশেষ করে ১৮ মাসে বিপুলসংখ্যক সাব-রেজিস্ট্রার বদলি এবং বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকালে নতুন রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন নিয়েও অভিযোগের কথা প্রতিবেদনে রয়েছে।
আরও কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও অভিযোগ
প্রতিবেদনের শেষাংশে সাবেক পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, নুরজাহান বেগম ও আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত প্রমাণ, তদন্তের অগ্রগতি কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
তদন্তই দিতে পারে প্রকৃত উত্তর
বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সরকারের সময় দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগ উঠলে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক তদন্ত হওয়া জরুরি।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা থাকলে ড. ইউনূসসহ সাবেক সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী তদন্ত করা উচিত—এমন দাবি উঠেছে।
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্টদের দায়মুক্তি—দুই ক্ষেত্রেই স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা সম্ভব।
সামালা টিভি | বিশেষ প্রতিবেদন
