লোচনা?
হত্যাকাণ্ডের পর স্থানীয় বিভিন্ন ফেসবুক পেজের লাইভ ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট ধরনের শার্ট পরে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। পরে গ্রেপ্তার এক সন্দেহভাজনের পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা যাওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
এর পাশাপাশি মরদেহ উদ্ধারের দিন ঘটনাস্থলে থাকা রংপুর মহানগর পুলিশের এক কর্মকর্তার পরনেও একই ধরনের শার্ট দেখা গেছে—এমন দাবি করে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন।
তবে শুধু পোশাকের মিলের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। শার্টটি একই ব্র্যান্ড, একই ডিজাইন বা একই পোশাক কি না, কিংবা ঘটনাটির সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে গ্রেপ্তার দুই যুবককে আদালতে হাজির করা হয়। পরে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. রফিকুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাদের জবানবন্দি নেওয়া হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি জানান, দুই যুবক আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। এ কারণে তাদের আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তিনি।
তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বিস্তারিত বিষয়বস্তু এবং এর সঙ্গে তদন্তে পাওয়া অন্যান্য আলামতের মিল কতটা রয়েছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান
এর আগে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে মামলার তদন্তে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি পুলিশের ভালো কাজের প্রশংসা করার পাশাপাশি কোনো নেতিবাচক বিষয় থাকলে তার সমালোচনা করার আহ্বান জানান।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তদন্তের বিষয়ে পুলিশের ওপর আস্থা রাখা যেতে পারে।
এখনো যেসব প্রশ্নের উত্তর বাকি
দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর তদন্তে নতুন তথ্য সামনে আসতে পারে। তবে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটনে আরও কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—ঘটনার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী ছিল, চারজনকে কীভাবে হত্যা করা হলো, আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত শার্টের সঙ্গে ঘটনাটির আদৌ কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না।
এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
সামালা টিভি | রংপুর
তদন্তাধীন কোনো ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানাচ্ছে সামালা টিভি।
