ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম দিন পার করছে। চলমান দাবদাহ থেকে বাঁচতে সাঁতার কাটতে নেমে অন্তত ৪০ জন প্রাণ হারিয়েছে। তারা অনিরাপদ ও নজরদারিবিহীন স্থানে সাঁতার কাটতে নেমে ছিল।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক জরুরি বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু বলেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে এ পর্যন্ত পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগেই তরুণ। তিনি এই ঘটনাকে একটি মর্মান্তিক অভিশাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লে হার্বিয়ার্সে তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছেছে। দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ির ভেতর থেকে দুই ও চার বছর বয়সী দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বোর্দো অঞ্চলে ৮০ থেকে ৯৫ বছর বয়সী আরও তিন বৃদ্ধ গরমজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে মারা গিয়েছেন।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ রেড ক্রস (আইএফআরসি) বলেছে, তীব্র দাবদাহ জীবন-মরণের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ জনগণকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার অনুরোধ করেছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া বিভাগ মেটিও-ফ্রান্স বলেছে, ১৯৪৭ সালের পর ফ্রান্সে এটিই সবচেয়ে উষ্ণতম সময়। অতিরিক্ত গরমের কারণে দেশের বিদ্যুৎ গ্রিড ও জনসেবা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় ৫৪টি এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় অনেক স্কুল নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা বলছে, ওমেগা ব্লক নামক একটি বিশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে উত্তর আফ্রিকা ও সাহারা মরুভূমি থেকে আসা গরম বাতাস ইউরোপের ওপর আটকে গেছে। বাতাস চলাচল না থাকায় এই গরম আরও তীব্র আকারে অনুভূত হচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
