ঢাকা | লোড হচ্ছে...
ADVERTISEMENT হেডার মেইন বিজ্ঞাপন

থানায় আগুন দেওয়া সেই নেতা আশ্রয় নিলেন থানায়!

  • Ashik Islam
    Ashik Islam
    Staff Reporter | আপলোড সময়: 10 জুন 2026 10:01 অপরাহ্ন
থানায় আগুন দেওয়া সেই নেতা আশ্রয় নিলেন থানায়!

থানায় আগুন দেওয়া সেই নেতা আশ্রয় নিলেন থানায়!

পাঁচমাস আগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দিয়ে বলেন, ‘বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’- সেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র নেতা নিজেকে বাঁচাতে আশ্রয় নিলেন থানায়। তিনি হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান। বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মাহাদী হাসান অভিযোগ করেন, ফেসবুকে তার দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে ধাওয়া দিয়েছেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তিনি হবিগঞ্জ সদর থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। জানা যায়, দুপুরে রিকশায় বসে নিজের ফেসবুক লাইভে আসেন মাহাদী হাসান। এসময় তিনি বলেন, ছাত্রদল আমার ওপর অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’ এসব বলতে বলতে তিনি রিকশা নিয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভেতরে যান। লাইভের শেষের দিকে তিনি বলেন, ‘আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসারের রুমে আছি। আমার একটা পরীক্ষা ছিল। ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরীক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়।’ তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন কোনো ঘটনায় ঘটেনি। মাহাদী হাসান মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছেন।। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, মাহদির ফেসবুক লাইভেই তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। কারণ লাইভে যখন তিনি রিকশার পেছনের অংশ দেখাচ্ছিলেন, তখন সেখানে কাউকে দেখা যায়নি। ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা পুরো অভিযোগই ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও সাজানো নাটক। পুলিশও বলেছে, এ ঘটনার কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি তারা। হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, আমরা যতদূর জেনেছি সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করার কারণে মাহাদি হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে। তবে আজকের হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি। মাহাদি আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। উল্লেখ্য, চলতি বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহাদী হাসানের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে মাহদীর নেতৃত্বে তারা ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। ওসির সামনের চেয়ারে বসে গ্রেফতার যুবককে ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে দম্ভ নিয়ে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেফতার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল। এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হলে ৩ জানুয়ারি মাহাদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন সমর্থকরা। ৪ জানুয়ারি তাকে আদালত জামিনে মুক্তি দেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে ৯ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হন। ওইদিন থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন থানার এসআই সন্তোষ চৌধুরী। তার মরদেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

সর্বশেষ সংবাদ
Mollah Liakat Hossain | CEO
Helpline Number: +8801974-973418
LIVE TV