ঢাকা | লোড হচ্ছে...
ADVERTISEMENT হেডার মেইন বিজ্ঞাপন
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত মানুষের সঙ্গে মুনাফেকি করেছে, এখন সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে: রিজভী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ, সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দাবিও দুদকের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দায় ব্রিকসের ১১ দেশ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ইরানের ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা পরিশোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট আ. লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না, যা বললেন আ স ম ফিরোজ পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

টাকা আছে, কিন্তু খরচ করা যাচ্ছে না, অদ্ভুত সংকটে ইয়েমেন

  • Mahi Liakat
    Mahi Liakat
    Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka | আপলোড সময়: 20 এপ্রিল 2026 03:55 অপরাহ্ন
টাকা আছে, কিন্তু খরচ করা যাচ্ছে না, অদ্ভুত সংকটে ইয়েমেন

টাকা আছে, কিন্তু খরচ করা যাচ্ছে না, অদ্ভুত সংকটে ইয়েমেন

ইয়েমেনি রিয়ালের মান পতন ঠেকাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে। তবে সেই সাফল্যের পরই সামনে এসেছে নতুন এক সংকট, তীব্র তারল্য সংকট। দক্ষিণ ইয়েমেনের এডেনভিত্তিক কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবৈধ মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুদ্রাবাজারে কারসাজির অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ রেমিট্যান্সকে নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে এবং আমদানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে একটি তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের ফলে কয়েক মাস আগে এক মার্কিন ডলারের বিপরীতে ২ হাজার ৯০০ রিয়াল থেকে দর নেমে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ রিয়ালে এসেছে। শুরুতে এতে স্বস্তি ফিরলেও এখন বাজারে স্থানীয় মুদ্রার অভূতপূর্ব ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সরকার নিয়ন্ত্রিত এডেন, তাইজ, মুকাল্লাসহ বিভিন্ন শহরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, মার্কিন ডলার বা সৌদি রিয়াল থাকলেও স্থানীয় ব্যাংক ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলো তা ভাঙাতে চাইছে না। কোথাও কোথাও জনপ্রতি দিনে মাত্র ৫০ সৌদি রিয়াল পরিবর্তনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা বাণিজ্য কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কালোবাজারি বাড়ছে, যেখানে কম দরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা হচ্ছে। মুকাল্লার মুদি দোকানদার মোহাম্মদ ওমর বলেন, গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া কয়েকশ সৌদি রিয়াল ভাঙাতে তিনি পুরো শহর ঘুরেছেন। ৫০ বছর বয়সী ওমর বলেন, এক এক্সচেঞ্জ থেকে আরেক এক্সচেঞ্জে গিয়েছি, কিন্তু ৫০ রিয়ালের বেশি কেউ ভাঙাতে রাজি হয়নি। বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ রাখতে হয়েছে। সৌদি সমর্থিত সরকার ও ইরানপন্থী হুথিদের মধ্যে এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের কারণে ইয়েমেন চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মধ্যে রয়েছে। রাজস্ব উৎসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উভয় পক্ষই অর্থ সংকটে ভুগছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও মৌলিক সেবাখাতে অর্থায়নেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সরকারি কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের বেতন মূলত ১০০ রিয়ালের ছোট নোটে দেওয়া হচ্ছে। ফলে পুরো বেতনের টাকা ব্যাগে করে বহন করতে হচ্ছে। লাহজের এক সরকারি কর্মচারী মুনিফ আলী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিওতে বড় বড় নোটের বান্ডিল দেখিয়ে জানান, ব্যবসায়ীরা এত ছোট নোট নিতে অনীহা দেখাচ্ছেন। প্রবাসী আয় পাওয়া পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে। হাজরামাউতের সালেহ ওমর জানান, সৌদি আরব থেকে পাওয়া ১ হাজার ৩০০ রিয়াল ভাঙাতে না পেরে তিনি দোকানদারদের সাহায্য চান। অনেক অনুরোধের পর এক দোকানদার ৪০০ রেটে মাত্র ৫০০ রিয়াল ভাঙাতে রাজি হন, যেখানে অফিসিয়াল রেট ছিল ৪১০। নগদ সংকট চিকিৎসা সেবাকেও প্রভাবিত করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালগুলো সৌদি রিয়ালে পেমেন্ট নিতে রাজি না হওয়ায় রোগীরা ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাইজের হেশাম আল সামান লিখেছেন, এক আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল সৌদি রিয়াল নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে টাকা ভাঙাতে তাকে পুরো শহর ঘুরতে হয়েছে। তবে আমদানিকারকদের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা সুবিধাজনক হয়েছে। কম রেটে সৌদি রিয়াল সংগ্রহ করতে পারায় ব্যবসার আমদানি ব্যয় মেটাতে সুবিধা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মুকাল্লার এক কাপড় ব্যবসায়ী।

আপনার মতামত লিখুন

Mahi Liakat

Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka

প্রতিবেদকের সব খবর
সর্বশেষ সংবাদ
LIVE TV