সামালা টিভি ডেস্ক:
ইসরাইলের বর্তমান প্রশাসনকে ‘যুদ্ধবাজ’ আখ্যা দিয়ে দেশটির কর্মকাণ্ড মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা মোকাবিলায় মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোকে পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ঐক্য ও সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এক বক্তব্যে এরদোগান বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ড শুধু প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তার অভিযোগ, ইসরাইল আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠিত নীতিকে উপেক্ষা করে ধারাবাহিকভাবে সামরিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইসরাইলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া যথেষ্ট কার্যকর নয়। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় বৈশ্বিক শক্তিগুলোর আরও কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
মুসলিম বিশ্বের ঐক্যের আহ্বান
এরদোগান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্য ও বৈরিতা কমিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন।
তার মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
সিরিয়ায় ইসরাইলি হামলার পর মন্তব্য
সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে সাম্প্রতিক ইসরাইলি বিমান হামলার পর এরদোগানের এই বক্তব্য সামনে এসেছে। ওই হামলার পর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, সিরিয়ার ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতি ঠেকানোই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।
এই পরিস্থিতিতে তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে আঞ্চলিক প্রভাব ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিরিয়ার ভূখণ্ডে দুই দেশের সামরিক স্বার্থের সংঘাতও মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তুরস্কের কৌশলগত তৎপরতা
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তুরস্ক মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতার প্রশ্নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন তুর্কি নেতারা।
তবে এরদোগানের বক্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে এর প্রভাব কতটা পড়বে এবং মুসলিম দেশগুলো তুরস্কের আহ্বানে কতটা সাড়া দেবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
সামালা টিভি | আন্তর্জাতিক ডেস্ক
