ঢাকা | লোড হচ্ছে...
ADVERTISEMENT হেডার মেইন বিজ্ঞাপন
সংবাদ শিরোনাম :
জামায়াত মানুষের সঙ্গে মুনাফেকি করেছে, এখন সন্ত্রাসের রাজনীতি করছে: রিজভী আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অর্থপাচারের অভিযোগ, সুইস ব্যাংকে অর্থ রাখার দাবিও দুদকের মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক আগ্রাসন ও একতরফা শুল্ক আরোপের নিন্দায় ব্রিকসের ১১ দেশ ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আরও অর্ধশত মামলা বিচারাধীন ৯/১১ হামলার ২৫ বছর: চার উড়োজাহাজ, ১৯ ছিনতাইকারী—নিজের পাতা ফাঁদেই কি আটকে গেল যুক্তরাষ্ট্র? যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার ইরানের ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে: হাইকোর্ট চেক ডিজঅনার মামলায় পাওনা পরিশোধ ও সমঝোতা হলে কারাদণ্ড নয়: হাইকোর্ট আ. লীগ জাতির কাছে ক্ষমা চাইবে কি না, যা বললেন আ স ম ফিরোজ পাঁচ বছরে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

  • Mahi Liakat
    Mahi Liakat
    Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka | আপলোড সময়: 22 আগস্ট 2026 09:21 পূর্বাহ্ন
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বাড়ছে প্রতি সেকেন্ডে ৯০ হাজার ডলার

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ নতুন এক মাইলফলক অতিক্রম করেছে। দেশটির মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ঋণের এই দ্রুত বৃদ্ধি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে ঋণের সুদ পরিশোধে সরকারের ব্যয় যেভাবে বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ এখন গড়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৯০ হাজার ডলার করে বাড়ছে। অর্থাৎ এক দিনে ঋণের পরিমাণ বাড়ছে প্রায় ৭ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার

এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ

২০১৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার সময় দেশটির জাতীয় ঋণ ছিল ২০ ট্রিলিয়ন ডলারের কিছু কম। মাত্র এক দশকের মধ্যে সেই ঋণ দ্বিগুণ হয়ে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির ইতিহাস অবশ্য আরও পুরোনো। ১৯৮১ সালে দেশটির জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে। সে সময়ও বিষয়টি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

অর্থনীতিবিদ মায়া ম্যাকগিনিসের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বছরে এসে দেশটি শুধু ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই ১৯৮১ সালের পুরো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করছে।

কেন এত বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ?

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য খাতে ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে।

অন্যদিকে কর কমানো ও অন্যান্য কারণে সরকারের রাজস্ব আয় প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় আয়-ব্যয়ের ঘাটতি পূরণে সরকারকে নিয়মিত নতুন ঋণ নিতে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকট এবং কোভিড-১৯ মহামারির সময় অর্থনীতি সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এসব ব্যয়ের বড় একটি অংশ এসেছে ঋণের মাধ্যমে।

উচ্চ সুদের হার বাড়াচ্ছে চাপ

জাতীয় ঋণের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরেকটি বড় সমস্যা হলো উচ্চ সুদের হার

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কয়েক বছর ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখার ফলে সরকারের পুরোনো ঋণ পুনঃঅর্থায়ন এবং নতুন ঋণ গ্রহণের খরচও বেড়েছে।

অর্থনীতিবিদ এরিক সোয়ানসনের মতে, এক দশক আগের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতির বড় পার্থক্য হলো সুদের হার। দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার কয়েক দশকের তুলনায় উচ্চ পর্যায়ে থাকায় সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে।

কর আয়ের বড় অংশ যাচ্ছে শুধু সুদ পরিশোধে

যুক্তরাষ্ট্র সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের হিসাবে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মোট কর আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ এখন শুধু জাতীয় ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হচ্ছে। এই ব্যয় দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের মোট ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে গেছে।

এর ফলে সরকারের হাতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো কিংবা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক খাতে ব্যয় করার মতো অর্থের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে।

সরকার ও প্রযুক্তি কোম্পানির মধ্যে অর্থের প্রতিযোগিতা

ঋণের সুদ বৃদ্ধির আরেকটি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদেরা বেসরকারি খাতের বড় ধরনের ঋণ গ্রহণের বিষয়টিও দেখছেন।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে। এসব বিনিয়োগের জন্য অনেক প্রতিষ্ঠান বড় অঙ্কের অর্থ ধার করছে।

ফলে একই বিনিয়োগকারীদের অর্থের জন্য মার্কিন সরকার এবং বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। এতে সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সরকারকে তুলনামূলক বেশি সুদ দিতে হতে পারে।

এখনই সংকট নয়, তবে ‘হলুদ সংকেত’

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দেশটির অর্থনীতির আকারের তুলনায় প্রায় ১২৬ শতাংশ। তবে জাপান ও ইতালির মতো কয়েকটি উন্নত দেশের তুলনায় এই অনুপাত এখনো কম।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং মার্কিন ডলার আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বৈশ্বিক রিজার্ভের প্রধান মুদ্রা হওয়ায় দেশটি অন্য অনেক দেশের তুলনায় বড় ঋণের বোঝা বহন করার সক্ষমতা রাখে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে ঝুঁকি নেই।

অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ এল-ইরিয়ানের ভাষায়, পরিস্থিতি এখনো ‘লাল সংকেত’ পর্যায়ে যায়নি; বরং এটি ‘হলুদ সংকেত’। অর্থাৎ এখনই বড় ধরনের সংকট তৈরি না হলেও ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়াতে এখন থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারালে কী হতে পারে?

বিশেষজ্ঞদের বড় উদ্বেগ হলো—এক পর্যায়ে যদি বিনিয়োগকারীরা মার্কিন সরকারি বন্ডকে আগের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা না করেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বেশি সুদ দিয়ে ঋণ নিতে হতে পারে।

এতে সরকারি ঋণের সুদ আরও বাড়বে এবং সরকারের বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

তবে ঠিক কোন পর্যায়ে গিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

সাধারণ মানুষের ওপরও পড়তে পারে প্রভাব

জাতীয় ঋণের বিষয়টি শুধু সরকারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ঋণ ও সুদের চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়তে পারে।

উচ্চ সুদের হার অব্যাহত থাকলে—

  • বাড়ি কেনার ঋণের সুদ বাড়তে পারে;
  • গাড়ি ঋণের খরচ বাড়তে পারে;
  • ক্রেডিট কার্ডের সুদের চাপ বাড়তে পারে;
  • ব্যবসার ঋণের খরচ বাড়তে পারে;
  • ব্যবসার বাড়তি খরচ পণ্যের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

ফলে ঋণের বোঝা পরোক্ষভাবে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়িয়ে দিতে পারে

সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে ওয়াশিংটন

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি যদি ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পারে, তাহলে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়তে পারে। এতে ঋণ ও সুদ পরিশোধের চাপ সামলানো কিছুটা সহজ হবে।

কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। তখন সরকারকে করব্যবস্থায় সংস্কার, সরকারি ব্যয় কমানো কিংবা বিভিন্ন খাতে কৃচ্ছ্রসাধনের মতো রাজনৈতিকভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

সম্প্রতি মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সরকারি ঋণের কিছু বন্ড পুনরায় কিনে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। এতে সাময়িকভাবে বন্ডের চাহিদা বাড়লেও পরদিনই দীর্ঘমেয়াদি ঋণের সুদের হার আবার বেড়ে যায়।

বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সংকেত

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও মার্কিন ডলার বৈশ্বিক অর্থনীতির কেন্দ্রীয় অংশ হওয়ায় দেশটির ঋণ পরিস্থিতির প্রভাব শুধু যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

মার্কিন বন্ডের সুদের হার, ডলারের মূল্য এবং দেশটির আর্থিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ, মুদ্রাবাজার ও ঋণবাজারেও তার প্রভাব পড়তে পারে।

তাই ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ শুধু একটি বড় সংখ্যা নয়—এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির ভবিষ্যৎ আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে আলোচনারও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামালা টিভি | দেশ ও বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খবর, বিশ্লেষণ ও মানুষের কথা।


আপনার মতামত লিখুন

Mahi Liakat

Central Buro Prodhan (CBP) Dhaka

প্রতিবেদকের সব খবর
সর্বশেষ সংবাদ
LIVE TV